জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ক্যাম্পাসে গাছে পেরেক ঠুকে ব্যানার টানানোর প্রবণতা থামছে না। পরিবেশবান্ধব ক্যাম্পাস গঠনের নানা উদ্যোগ ও প্রতিশ্রুতি থাকা সত্ত্বেও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থানের গাছ এখনো ব্যানারের ভারে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের একাধিক ব্যানার এবং জবি ম্যানেজমেন্ট ক্লাবের একটি পুরোনো ব্যানার গাছে পেরেকবিদ্ধ অবস্থায় দেখা গেছে, যা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা যায়, শান্ত চত্বর, ক্যাফেটেরিয়ার সামনে এবং শহীদ সাজিদ ভবনের সামনের বিভিন্ন গাছে সরাসরি পেরেক ঠুকে ব্যানার লাগানো হয়েছে। এতে গাছের কাণ্ডে ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে। পরিবেশ সচেতন শিক্ষার্থীরা বলছেন, রাজনৈতিক, সামাজিক কিংবা সাংস্কৃতিক—যে কোনো সংগঠনেরই ক্যাম্পাসের পরিবেশ ও সৌন্দর্য রক্ষার বিষয়ে দায়িত্বশীল হওয়া প্রয়োজন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, অনেক সংগঠন অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পরও ব্যানার অপসারণ করে না। এর ফলে দীর্ঘদিন গাছে পেরেকবিদ্ধ অবস্থায় ব্যানার ঝুলে থাকে, যা একদিকে গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধিতে বাধা সৃষ্টি করে, অন্যদিকে ক্যাম্পাসের নান্দনিক পরিবেশও নষ্ট করে।
আরও পড়ুন:সিংড়ায় শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় যুবদলের শান্তি মিছিল ও সমাবেশ
এর আগেও একই ধরনের ঘটনা নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কিছু ব্যানার অপসারণ ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছিল। তবে সেই উদ্যোগ স্থায়ী সমাধান আনতে পারেনি। নতুন করে গাছে ব্যানার টানানোর ঘটনায় প্রশাসনের নজরদারি ও কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষার্থীরা।
পরিবেশবিদদের মতে, গাছে পেরেক ঠোকা গাছের জন্য ক্ষতিকর। এর ফলে গাছের ভেতরে রোগজীবাণু প্রবেশের ঝুঁকি বাড়ে এবং দীর্ঘমেয়াদে গাছের স্বাস্থ্য ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
জবি ম্যানেজমেন্ট ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শান্ত চন্দ্র শীল বলেন, “এর আগে অন্যদেরও এভাবে ব্যানার লাগাতে দেখেছি। সে কারণেই আমরাও একই পদ্ধতি অনুসরণ করেছি। ব্যানার লাগানোর জন্য প্রশাসনের অনুমতি নেওয়া হয়েছিল, তবে কোথায় ও কীভাবে ব্যানার স্থাপন করতে হবে সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। আমাদের কোনো ব্যানার এখনো থাকলে আমরা দ্রুত তা সরিয়ে নেব।”
জবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল বলেন, “সম্ভবত ডেকোরেশনের কর্মীরা ভুলবশত গাছে ব্যানার টানিয়েছে। বিষয়টি জানানোর জন্য ধন্যবাদ। আমরা দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করে ব্যানারগুলো সরিয়ে ফেলব।”
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মোহাম্মদ নাসির উদ্দীনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি সকাল ১০টার মধ্যে সব ব্যানার সরিয়ে ফেলার আশ্বাস দেন। তবে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও ক্যাম্পাসে ব্যানার অপসারণের কোনো দৃশ্যমান কার্যক্রম দেখা যায়নি।
শিক্ষার্থীরা বলছেন, ক্যাম্পাসের গাছ কোনো সংগঠনের প্রচারণার মাধ্যম নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্ধারিত নোটিশ বোর্ড ও ব্যানার স্ট্যান্ড থাকা সত্ত্বেও গাছ ব্যবহার করার কোনো যৌক্তিকতা নেই। তাই রাজনৈতিক দলসহ সব সংগঠনের জন্য সমান নীতি প্রণয়ন ও কঠোরভাবে বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন তারা।
One thought on "জবির গাছে পেরেকবিদ্ধ ব্যানার, প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন"
Comments are closed.